ইউরোপের দেশভেদে স্টাডি অ্যাপ্লিকেশন পোর্টাল
ইউরোপে পড়তে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। কিন্তু আবেদন প্রক্রিয়া জটিল মনে হওয়ায় অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান। আসলে, প্রতিটি দেশের নিজস্ব একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে। কিছু দেশে কেন্দ্রীয় পোর্টাল ব্যবহার করতে হয়, আবার কিছু দেশে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে আবেদন করতে হয়। এই পার্থক্য বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভুল পোর্টালে আবেদন করলে আপনার আবেদন প্রক্রিয়াই হবে না।
যুক্তরাজ্য (UK) – UCAS
যুক্তরাজ্যে আন্ডারগ্রাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদন করতে হয় UCAS (Universities and Colleges Admissions Service) পোর্টালের মাধ্যমে। ucas.com-এ গিয়ে একসঙ্গে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা যায়। মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে আবেদন করতে হয়। সাধারণত জানুয়ারি ১৫ তারিখের মধ্যে আবেদন জমা দিতে হয়।
জার্মানি – Uni-Assist
জার্মানির বেশিরভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের Uni-Assist পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। uni-assist.de-তে ডকুমেন্ট আপলোড করলে তারা যাচাই করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠায়। এই প্রক্রিয়ায় ১ থেকে ২ সপ্তাহ সময় লাগে, তাই ডেডলাইনের আগেই আবেদন জমা দেওয়া উচিত। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় সরাসরি আবেদনও গ্রহণ করে। Uni-Assist-এর ডেডলাইন সাধারণত জুলাই ১৫।
নেদারল্যান্ডস – Studielink
নেদারল্যান্ডসের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে হয় Studielink পোর্টালের মাধ্যমে। studielink.nl-এ একটি অ্যাকাউন্ট খুলে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে আবেদন করা যায়। Numerus Fixus প্রোগ্রামের জন্য ডেডলাইন মে ১, বাকি প্রোগ্রামের জন্য ডেডলাইন আলাদা।
সুইডেন – universityadmissions.se
সুইডেনে সব মাস্টার্স প্রোগ্রামে অক্টোবর ১৬ থেকে জানুয়ারি ১৫-এর মধ্যে universityadmissions.se-তে আবেদন করতে হয়। সুইডেনে বছরে শুধু একটি আবেদন উইন্ডো থাকে। এটি মিস করলে পুরো বছর অপেক্ষা করতে হবে।
ফ্রান্স – Campus France
ফ্রান্সে আবেদন করতে হয় Campus France পোর্টালের মাধ্যমে। etudes-en-france.fr-এ অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে এবং ফ্রেঞ্চ দূতাবাসে ইন্টারভিউ দিতে হবে। ডেডলাইন সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে।
ইতালি – Universitaly
ইতালিতে প্রি-এনরোলমেন্ট করতে হয় universitaly.it-এ। এটি না করলে স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়া যাবে না। এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।
আয়ারল্যান্ড – CAO
আয়ারল্যান্ডে আন্ডারগ্রাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদন করতে হয় CAO (Central Applications Office) পোর্টালের মাধ্যমে। cao.ie-তে আবেদন করুন। এই পোর্টাল না জেনে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করলে কাজ হবে না।
অস্ট্রিয়া – সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে
অস্ট্রিয়ায় কোনো কেন্দ্রীয় পোর্টাল নেই। সরাসরি প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পোর্টালে আবেদন করতে হয়।
পোল্যান্ড – সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে
পোল্যান্ডেও কেন্দ্রীয় পোর্টাল নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইটে আবেদন করতে হয়।
ডেনমার্ক – সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে
ডেনমার্কেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পোর্টালে আবেদন করতে হয়। তবে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় Optagelse.dk ব্যবহার করে।
মনে রাখবেন, কেন্দ্রীয় পোর্টালে আবেদন করার মানেই ভর্তি হওয়া নয়। পোর্টাল শুধু আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। ভর্তির সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় নেয়। আর পোর্টালের পাশাপাশি কিছু বিশ্ববিদ্যালয় সরাসরি আবেদনও গ্রহণ করে। তাই আবেদনের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ভালোভাবে চেক করুন।
