১. ভ্রমণ ও আইনি পরিচয়: এয়ারপোর্টে সবচেয়ে আগে দেখা হয় এই কাগজগুলো
বিদেশে পা রাখার আগে পাসপোর্ট, ভিসা এবং ভ্রমণ টিকিটের মতো নথিগুলো অবশ্যই প্রস্তুত রাখতে হবে। পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস থেকে ১ বছর থাকা বাধ্যতামূলক। পুরনো পাসপোর্ট থাকলেও তা সঙ্গে রাখা ভালো। ই-ভিসা বা ভিসা ডিক্রিশন লেটার হলে একাধিক কালার প্রিন্ট কপি রাখুন। ওয়ান-ওয়ে বা রিটার্ন টিকিটের প্রিন্ট কপি এবং সন্তানের জন্ম নিবন্ধনের ইংরেজি সংস্করণ ও জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)ও প্রয়োজন। এছাড়া সাম্প্রতিক পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (PCC) রাখুন, যা অনেক দেশে স্থানীয় আইডি কার্ড তৈরির সময় দরকার হয়।
২. শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রেশনের সময় চোখে পড়বে মূল ডকুমেন্ট
বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে রেজিস্ট্রেশন করার সময় এসএসসি, এইচএসসি, ব্যাচেলর বা মাস্টার্সের মূল সনদ ও নম্বরপত্র দেখাতে হয়। এসব সনদ দেশের শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়ন (attestation) করিয়ে নিন। ভাষা দক্ষতার জন্য IELTS, TOEFL, Duolingo, GRE, GMAT বা HSK (চীনের জন্য) স্কোরকার্ডের মূল কপি জরুরি। আগের প্রফেসরদের রিকমেন্ডেশন লেটার এবং আপনার SOP বা Motivation Letter-এর প্রিন্ট কপি ভবিষ্যতে পার্ট-টাইম জব বা ইন্টার্নশিপের আবেদনের কাজে আসতে পারে।
৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল ডকুমেন্টস: প্রমাণ করুন আপনি আইনত একজন ছাত্র
ইমিগ্রেশন অফিসারকে বোঝাতে হবে যে আপনি প্রকৃতই একজন বৈধ ছাত্র। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার/এনরোলমেন্ট লেটার (যেমন আমেরিকার জন্য I-20, যুক্তরাজ্যের জন্য CAS, চীনের জন্য JW202/DQ Form, কানাডার জন্য LOA) হাতে রাখা বাধ্যতামূলক। টিউশন ফি পেমেন্ট বা ডিপোজিটের ব্যাংক ট্রান্সফার (Flywire/Western Union) রসিদ এবং যদি আপনি ফুল বা পার্শিয়াল স্কলারশিপ পেয়ে থাকেন তবে তার অফিশিয়াল অ্যাওয়ার্ড লেটারও রাখতে ভুলবেন না।
৪. আর্থিক সচ্ছলতা ও ব্যাংক সংক্রান্ত: বিদেশে জীবনযাত্রার জন্য প্রমাণ
অনেক দেশে ল্যান্ড করার পর স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্ট বা ব্লকড অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য ব্যাংক ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয়। ভিসার জন্য ব্যবহৃত স্পন্সরের সর্বশেষ ৩/৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেটের কপি নিন। স্পন্সরের সাথে আপনার সম্পর্কের আইনি হলফনামা (Affidavit of Support) ও জার্মানির জন্য ব্লকড অ্যাকাউন্টের কনফার্মেশন বা কানাডার জন্য GIC (Guaranteed Investment Certificate) সার্টিফিকেট রাখুন। এয়ারপোর্টে এনডোর্সমেন্ট করা আন্তর্জাতিক ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড ও জরুরি খরচের জন্য কিছু ক্যাশ ডলার/ইউরো রাখা ভালো।
৫. চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য বীমা: বিদেশে চিকিৎসা খরচ থেকে রক্ষা পেতে
বিদেশে চিকিৎসার খরচ অনেক বেশি। তাই ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স ও ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট হেলথ ইন্স্যুরেন্স পলিসির কপি রাখতে ভুলবেন না। দেশের অনুমোদিত প্যানেল ডাক্তার থেকে নেয়া মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট (যেমন Chest X-ray, TB টেস্ট) ও কোভিড-১৯ সহ অন্যান্য টিকার আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেট প্রয়োজন। আপনার যদি নিয়মিত ওষুধ থাকে, তবে ডাক্তারের মূল প্রেসক্রিপশনসহ পর্যাপ্ত পরিমাণ ওষুধ জোগাড় করুন, যা বিদেশের এয়ারপোর্টে ডিক্লেয়ার করা সহজ হবে।
৬. ছবি ও অন্যান্য জরুরি জিনিস: ছোটখাটো সুবিধার জন্য
পাসপোর্ট সাইজের ম্যাট ও গ্লসি পেপারে কমান্ড ১৫-২০ কপি ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড) সঙ্গে রাখা ভালো। ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং পারমিট (IDP) থাকলে তা বিদেশে পার্ট-টাইম জবের জন্য বিশাল সুবিধা দিতে পারে। আপনি যেখানে থাকবেন (University Dorm/Private Apartment) তার বুকিং কনফার্মেশন ঠিকানাও রাখতে হবে।
৭. বিশেষ ট্রাভেল হ্যাকস: ফাইল ম্যানেজমেন্ট ও ডিজিটাল ব্যাকআপ
এক্সপার্ট ট্রাভেলাররা তিনটি আলাদা ফাইল ব্যবহার করেন: ফাইল-১ (হ্যান্ড ব্যাগ): পাসপোর্ট, ভিসা, I-20/অফার লেটার, মেডিকেল ও টিকিট; ফাইল-২ (লাগেজ): মূল একাডেমিক সার্টিফিকেট ও বাকি কাগজপত্র; ফাইল-৩ (লাগেজ): সব কাগজপত্রের ২ সেট ফটোকপি। এছাড়া, গুগল ড্রাইভ বা ড্রপবক্সে সব কাগজের ফোল্ডার অফলাইন-অ্যাভেলেবল করে রাখুন, যেন ইন্টারনেট ছাড়াও ফোন থেকে অ্যাক্সেস করা যায়। যদি কোনো ডকুমেন্ট বাংলায় থাকে (যেমন নোটারি বা নিকাহনামা), তা নোটারি পাবলিক ও সরকার অনুমোদিত অনুবাদক দিয়ে ইংরেজিতে অনুবাদ করিয়ে নিন।
