সুইডেন (Sweden) – পরিবারবান্ধব নীতিতে এগিয়ে
সুইডেনে মাস্টার্স, পিএইচডি বা যেকোনো লেভেলে পড়তে গেলেই পরিবার নিয়ে আসার সুযোগ রয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনের সময়ই স্পাউস ও সন্তানদের জন্য একসঙ্গে আবেদন করা যায়। স্পাউস আসার পর থেকেই ফুল-টাইম কাজ করতে পারবেন – কোনো বিধিনিষেধ নেই। সন্তানরা সরকারি স্কুলে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়তে পারবে।
তবে ২০২৬ সালের ১১ জুন থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে: ব্যাচেলর বা মাস্টার্স লেভেলে পড়লে এখন সপ্তাহে সর্বোচ্চ ১৫ ঘণ্টা কাজ করা যাবে। আগে কোনো লিমিট ছিল না। তাই আয় নির্ভরতা আগের মতো না রেখে বাজেট পরিকল্পনা করতে হবে। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের মধ্যে আছে – ম্যারেজ সার্টিফিকেট, সন্তানের জন্ম নিবন্ধন, সবার পাসপোর্ট কপি, আপনার অ্যাকাউন্টে ফান্ড প্রমাণ, এবং আবাসনের প্রমাণ।
ফিনল্যান্ড (Finland) – প্রক্রিয়ায় সময় লাগে, কিন্তু সুযোগ ভালো
ফিনল্যান্ডে স্টুডেন্ট থাকাকালীন স্পাউস ও সন্তানরা আসতে পারবে। স্পাউস ফুল-টাইম কাজ করতে পারবেন, আর সন্তানরা সরকারি স্কুলে ফ্রিতে পড়বে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে রাখা জরুরি: আপনার স্টুডেন্ট পারমিট পাওয়ার আগে পরিবারের পারমিট প্রক্রিয়া শুরু হয় না। মানে আপনার পারমিট পেতে যদি ৩ মাস লাগে, তারপর পরিবার আবেদন করলে আরও ৩-৪ মাস লেগে যেতে পারে। মোট ৬-৮ মাস আগে পরিকল্পনা করা ভালো।
ডেনমার্ক (Denmark) – কঠোর নিয়ম, কিন্তু উচ্চমানের শিক্ষা
ডেনমার্কে স্পাউস আনা সম্ভব, তবে ২০২৫ সালের মে থেকে নতুন নিয়ম চালু হয়েছে: প্রাইভেট বিজনেস অ্যাকাডেমি বা পাথওয়ে কলেজে পড়লে স্পাউস আর আনা যাবে না। শুধুমাত্র স্টেট অ্যাপ্রুভড মাস্টার্স বা পিএইচডিতে পড়লেই স্পাউস পারমিট পাওয়া যাবে। স্পাউস আসলে ফুল-টাইম কাজ করতে পারবেন, এবং সন্তানদের স্কুল ফ্রি। তবে ডেনমার্কের ইন্টিগ্রেশন রিকোয়ারমেন্ট সবচেয়ে কঠোর – ড্যানিশ ভাষা না শিখলে এখানে দীর্ঘমেয়াদি থাকা অনেক কঠিন।
নরওয়ে (Norway) – উচ্চ ব্যয়, কিন্তু সম্ভাবনা আছে
নরওয়েতে স্টুডেন্ট থাকলে স্পাউস ও সন্তানরা আসতে পারবে, এবং স্পাউস কাজ করতে পারবেন। কিন্তু মাস্টার্স লেভেলে টিউশন ফি চালু হওয়ার পর পরিবারসহ পড়ার মোট খরচ অনেক বেড়ে গেছে। টিউশন, লিভিং কস্ট ও পরিবারের খরচ একসাথে সামলানো সত্যিই কঠিন। তবে ভালো বাজেট থাকলে নরওয়ে একটি চমৎকার অপশন হতে পারে।
সব দেশের জন্য সাধারণ টিপস
পরিবার নিয়ে যাওয়ার সময় শুধু নিজের পড়াশোনার প্রয়োজনীয় ফান্ড নয়, পরিবারের জন্যও আলাদা ফান্ড দেখাতে হবে। আবাসনের প্রমাণ বাধ্যতামূলক – ছোট রুমে পরিবার থাকার প্রমাণ দিলে রিজেক্ট হতে পারে। প্রত্যেক সদস্যের জন্য আলাদা হেলথ ইন্স্যুরেন্স কিনতে হবে। সন্তানের জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্ট নোটারাইজড হতে হবে, এবং ম্যারেজ সার্টিফিকেটের অফিসিয়াল ট্রান্সলেশন লাগবে।
নর্ডিক দেশগুলো পরিবার নিয়ে পড়তে যাওয়ার জন্য এখনও সেরা অপশন, তবে নিয়মকানুন আপডেট রাখা এবং যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
